ইতালি স্পন্সর ভিসায় ৫ লাখ শ্রমিক নিচ্ছে, বাংলাদেশিদের সুযোগ

ইতালি স্পন্সর ভিসা হল এক ধরণের কাজের ভিসা যা আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময়ের জন্য ইতালিতে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়, যেখানে একজন স্পন্সর (যেমন একটি কোম্পানি বা ব্যক্তি) প্রয়োজন হয়। ইতালি সরকার আগামী তিন বছরে ৫ লাখ বিদেশী কর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এই বছরের স্পন্সরড ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া ২৩ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে।

ভিসার ধরণ এবং প্রয়োজনীয়তা

ইতালি স্পন্সরড ভিসা মূলত একটি কাজের ভিসা হিসেবে কাজ করে এবং নির্মাণ, ড্রাইভার, হোটেল এবং রেস্তোরাঁ, কৃষি এবং পর্যটন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদান করে। এই ভিসা পাওয়ার জন্য, একজন স্পন্সর থাকা বাধ্যতামূলক, যিনি ইতালিতে অবস্থিত একটি কোম্পানি বা ব্যক্তি হতে পারেন। আবেদনকারীদের কাজের অভিজ্ঞতা এবং ভাষাগত দক্ষতা থাকতে হতে পারে।

আবেদন প্রক্রিয়া এবং সময়সূচী

২০২৫ সালের জন্য ইতালি স্পন্সরড ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া ২৩ অক্টোবর সকাল ৯ টা থেকে শুরু হয়েছে এবং ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। আবেদনগুলি ইতালীয় সরকারের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে করতে হবে, যেখানে বৈধ নিয়োগকর্তা ছাড়া আবেদন করা যাবে না। আগের বছরগুলিতে, ‘ক্লিক ডে’ নামে একটি নির্দিষ্ট দিনে আবেদন শুরু করা হত, কিন্তু এই বছর আবেদন প্রক্রিয়াটি প্রযুক্তি-ভিত্তিক এবং কঠোর করা হয়েছে।

ক্লিক ডে নির্ধারণ

প্রতিটি সেক্টরের জন্য আবেদন গ্রহণের জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ বা “ক্লিক ডে” নির্ধারণ করা হয়েছে :

  • ১২ জানুয়ারী, ২০২৬ (সকাল ৯টা): কৃষি সেক্টর
  • ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬: পর্যটন এবং হোটেল সেক্টর
  • ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬: অ-মৌসুমী সেক্টর
  • ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬: পারিবারিক যত্ন সেক্টর

বেতন এবং খরচ

ইতালীয় স্পন্সরড ভিসার মাসিক বেতন কাজের ধরণ, অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার উপর নির্ভর করে প্রায় ১.৫ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকা হতে পারে। তবে, ভিসা পাওয়ার খরচ প্রায় ৭ লক্ষ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা হতে পারে, বিশেষ করে যদি আপনি বেসরকারি খাতের মাধ্যমে যান। সরকারি খাতের মাধ্যমে গেলে খরচ তুলনামূলকভাবে কম।

প্রয়োজনীয় যোগ্যতা

ইতালি স্পন্সর ভিসার জন্য আবেদনকারীদের নিম্নলিখিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে:

  • আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
  • ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি (মাধ্যমিক)।
  • কমপক্ষে ৬ মাস বা তার বেশি মেয়াদের বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে।
  • নিয়োগকর্তার একটি কাজের চুক্তি এবং ইতালিতে নিয়োগকর্তা কর্তৃক জারি করা নলস্তা বা ওয়ার্ক পারমিট থাকতে হবে।
  • আবেদনকারীকে মেডিকেল বীমা এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।
  • নিয়োগকর্তাকে কর্মচারীকে আইনত নিয়োগের জন্য তার আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • পাসপোর্টের কপি
  • কর্মসংস্থান চুক্তি
  • চিকিৎসা বীমা পলিসি
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট

আবেদন প্রক্রিয়া

আবেদন প্রক্রিয়া দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। প্রথমত, ইতালিতে অবস্থিত নিয়োগকর্তা নলস্তা (Nulla Osta)  কাছে আবেদন করেন। এটি অনুমোদিত হলে, আবেদনকারী ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে ভিসার জন্য আবেদন করেন। আবেদনের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রয়োজন।

কিভাবে আবেদন করবেন

ইতালীয় স্পন্সর ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে, ইতালিতে নিবন্ধিত কোনও কোম্পানি বা ব্যক্তি (নিয়োগকর্তা) কে প্রথমে স্পন্সরের ভূমিকা নিতে হবে, যার একটি ট্যাক্স কোড থাকতে হবে। আবেদনকারী সরাসরি আবেদন করতে পারবেন না, শুধুমাত্র নিয়োগকর্তা আবেদন করতে পারবেন।

অতীতে, অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া ‘ক্লিক ডে’ নামে একটি নির্দিষ্ট দিনে সম্পন্ন হত, যেখানে আবেদনকারীরা সময়মতো ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ ওয়েবসাইটে ফর্ম পূরণ করতেন। তবে, এখন আবেদন প্রক্রিয়া আগের তুলনায় আরও কঠোর এবং স্বচ্ছ হয়ে উঠেছে এবং শুধুমাত্র বৈধ এবং যাচাইযোগ্য নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ করা হবে।

২০২৫ সালে, আবেদন অক্টোবরের শেষের দিকে বা নভেম্বর পর্যন্ত শুরু হবে এবং ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। ইতালীয় সরকার কর্তৃক নির্ধারিত প্ল্যাটফর্ম থেকে নিয়োগকর্তার মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। প্রাসঙ্গিক ফর্ম পূরণ করতে হবে এবং আবেদনের সময়কালের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

দালাল বা অবৈধ উপায় ব্যবহার না করে সরাসরি প্রমাণিত নিয়োগকর্তার মাধ্যমে আবেদন করা ভালো, কারণ সরকারের ডিজিটাল সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমস্ত তথ্য যাচাই করবে।

নলস্তা (Nulla Osta) বা ওয়ার্ক পারমিট কি?

নলস্তা (Nulla Osta) বা কোম্পানি অনুমোদনপত্র হল ইতালিতে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় একটি সরকারি অনুমতিপত্র। স্পন্সরকৃত ভিসার ক্ষেত্রে, নিয়োগকর্তাকে এই নুলা অস্তা পেতে ইতালির স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করতে হবে, যা নিশ্চিত করে যে বিদেশী কর্মী আইনত কাজ করার অনুমতিপ্রাপ্ত। অর্থাৎ, এই অনুমতিপত্র ছাড়া, কর্মী দেশে কাজ করতে পারবেন না। সাধারণত, স্পন্সরকৃত ভিসার মাধ্যমে, নিয়োগকর্তা কর্মীর জন্য এই অনুমতিপত্রের ব্যবস্থা করতে বাধ্য। নুলা অস্তা পাওয়ার পর, আবেদনকারীকে কাজ করার অধিকার দেওয়া হয় এবং ভিসার মেয়াদকাল পর্যন্ত তাকে সরকারি কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়। এটি শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ইতালির মুদ্রা হল ইউরো (ইউরো – EUR) । ইতালির ১ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা?

বাংলাদেশী টাকা (BDT) থেকে ইউরোর বিনিময় হার সর্বদা পরিবর্তিত হয়। আজ (২৪ অক্টোবর, ২০২৫) পর্যন্ত ইউরোর মূল্য আনুমানিক:

মুদ্রা বিনিময় হার (প্রায়)
১ ইউরো (EUR) ৳১৪২.১৩ বাংলাদেশি টাকা (BDT)

ইতালিতে যাওয়ার জন্য মানুষের এত আগ্রহ কেন?

দিন দিন ইতালিতে কর্মসংস্থানের জন্য মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। এর প্রধান কারণ হলো দেশে দক্ষ ও অদক্ষ কর্মীদের জন্য বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ, ভালো বেতন এবং তুলনামূলকভাবে উন্নত জীবনযাত্রার মান। ইতালির কৃষি, নির্মাণ, হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং শিল্প খাতে বিদেশী কর্মীদের চাহিদা প্রচুর। এছাড়াও, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ হওয়ায়, এখানে কাজ করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে অন্যান্য ইউরোপীয় দেশেও সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের অনেক তরুণ ইতালিকে স্থায়ীভাবে বসবাস এবং আয়ের নিরাপত্তার জন্য একটি নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে দেখেন। ফলে, বৈধভাবে ইতালিতে চাকরির সুযোগ পাওয়া এখন অনেকের কাছে স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment