প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) ২০২৫ সালের জন্য ১০,২১৯টি নতুন পদে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের জন্য একটি বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে এই নিয়োগ দেওয়া হবে। সারা দেশের যোগ্য প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আশা করা হচ্ছে যে এই নিয়োগ প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নত করবে এবং বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক সংকট সমাধান করবে। আবেদন প্রক্রিয়া, যোগ্যতা, পরীক্ষার ধাপ এবং ফলাফল প্রকাশ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষা খাতে আগ্রহী তরুণদের জন্য এটি একটি দুর্দান্ত সুযোগ। প্রথম পর্যায়ে, এটি ছয়টি বিভাগে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল এবং সিলেট) কেন্দ্রীভূত করা হবে, যাতে স্বচ্ছতা এবং দক্ষতা নিশ্চিত করা যায়।
প্রাথমিক শিক্ষক (সহকারী শিক্ষক) সম্পর্কে সংক্ষেপে
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর, সাধারণত প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিশুদের শিক্ষাদান করেন। এই শিক্ষকরা শিশুদের মধ্যে মৌলিক দক্ষতা এবং জ্ঞানের ভিত্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যেমন মৌলিক সাক্ষরতা, সংখ্যাবিদ্যা এবং সামাজিক মূল্যবোধ। তাদের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী পাঠ্যক্রম অনুসারে শিক্ষাদান, শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা এবং শ্রেণীকক্ষে একটি সুখী এবং শেখার সহায়ক পরিবেশ বজায় রাখা। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের পেশা একটি জাতি গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্মানজনক, কারণ তারা শিশুদের ভবিষ্যত শিক্ষার পথ প্রশস্ত করে।
পদের বিবরণ ও আবেদন সংক্রান্ত বিস্তারিত
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠানের নাম | প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) |
| চাকরির ধরন | সরকারি চাকরি |
| পদের নাম | সহকারী শিক্ষক |
| পদসংখ্যা | ০১টি |
| লোকবল | ১০,২১৯টি |
| গ্রেড | ১৩ |
| বেতন | ১১,০০০-২৬,৫৯০ টাকা |
| আবেদন ফি | টেলিটকের সার্ভিস চার্জসহ ১১২ টাকা |
| বয়সসীমা | সর্বনিম্ন ২১ বছর; সর্বোচ্চ ৩২ বছর। |
| যোগ্যতা | স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি |
| আবেদন শুরু | ০৮ নভেম্বর ২০২৫ (১০:৩০ মি:) |
| আবেদনের শেষ তারিখ | ২১ নভেম্বর ২০২৫ (১১:৫৯ মি:) |
| আবেদনের মাধ্যম | অনলাইন (dpe.gov.bd) |
প্রাইমারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫ বিজ্ঞপ্তি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
যোগ্যতা ও দক্ষতা
স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি বা সমমানের ডিগ্রি যার মধ্যে ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণী বা সমমানের সিজিপিএ (৪ স্কেলে ন্যূনতম ২.২৫ এবং ৫ স্কেলে ন্যূনতম ২.৮) থাকতে হবে। শিক্ষাজীবনে যেকোনো স্তরে তৃতীয় বিভাগ বা সমমানের জিপিএ অথবা তৃতীয় শ্রেণী বা সমমানের সিজিপিএ গ্রহণযোগ্য হবে না। এছাড়াও, প্রার্থীর বাংলা, ইংরেজি এবং গণিতে ভালো দক্ষতা থাকতে হবে। যোগাযোগ দক্ষতা, শিশুদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ, ধৈর্য এবং নেতৃত্বের গুণাবলী এই পদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা থাকলে এটি একটি অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। একজন ভালো প্রাথমিক শিক্ষক হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ জাগিয়ে তোলার জন্য সৃজনশীল চিন্তাভাবনা এবং শিক্ষণ কৌশল জানা অপরিহার্য।
চাকরির দায়িত্ব ও কার্যপরিধি
একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের কাজের দায়িত্ব এবং কর্মক্ষেত্র অত্যন্ত বহুমুখী এবং শিশু-কেন্দ্রিক। তারা প্রতিদিন প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, সামাজিক শিক্ষা এবং ধর্মীয় শিক্ষা পড়ান, পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি সৃজনশীল কার্যকলাপ (গল্প, গান, খেলাধুলা, অঙ্কন) পরিচালনা করেন এবং শ্রেণীকক্ষে শৃঙ্খলা এবং ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখেন। তারা মূল্যায়ন হিসেবে শ্রেণি পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রকল্প এবং বার্ষিক পরীক্ষার বই মূল্যায়ন করেন, ফলাফল প্রস্তুত করেন এবং অভিভাবকদের সাথে আলোচনা করেন। এছাড়াও, তারা স্কুলের পরিচ্ছন্নতা, উৎসব (স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস) আয়োজন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) কর্তৃক নির্দেশিত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের মতো স্কুল উন্নয়নমূলক কাজের জন্য দায়ী। তারা শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, পরিবেশগত সচেতনতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা শেখানোর মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যত প্রজন্ম গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
বেতন ও সুযোগ-সুবিধা
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর অধীনে নির্ধারিত, যা ২০২৫ সালে উন্নীতকরণের মাধ্যমে আরও আকর্ষণীয় করা হয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতন দেওয়া হয়, যার মূল বেতনের পরিসীমা ১১,০০০-২৬,৫৯০ টাকা (মূল বেতন ১১,০০০ টাকা থেকে শুরু), যার সাথে বার্ষিক বৃদ্ধি (প্রায় ৩৫০-৪০০ টাকা) যোগ করা হয়। এছাড়াও, ভাতার মধ্যে রয়েছে বাড়ি ভাড়া (মূল বেতনের ৫০-৬৫%), চিকিৎসা ভাতা (১,৫০০ টাকা), উৎসব ভাতা (বছরে দ্বিগুণ মূল বেতন), শিক্ষা সহায়তা ভাতা (শিশুদের জন্য) এবং বিশেষ প্রণোদনা (মূল বেতনের ১০-১৫%), যা মোট আয় ১৯,০০০-৩০,০০০ টাকায় বৃদ্ধি করে। সুবিধাগুলির মধ্যে রয়েছে পেনশন, গ্র্যাচুইটি, বেতনভুক্ত ছুটি (বার্ষিক, চিকিৎসা, সংযুক্ত), প্রশিক্ষণ বৃত্তি (বি.এড/ডি.পি.এড), পদোন্নতি (প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি), গৃহঋণ এবং সরকারি চাকরির মেয়াদ, যা এই পেশাকে আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তার একটি নির্ভরযোগ্য উৎস করে তোলে। এই কাঠামো শিক্ষকদের শিক্ষাক্ষেত্রে মনোনিবেশ করতে এবং অবদান রাখতে সহায়তা করে।
এই চাকরির জন্য কেন আবেদন করবেন?
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদটি কেবল একটি চাকরি নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য একটি মহান দায়িত্ব এবং একটি স্থায়ী সরকারি চাকরির সুবর্ণ সুযোগ। এই পদের জন্য আবেদন করার প্রধান কারণগুলি হল: প্রথমত, স্থায়ী সরকারি চাকরি – যা আজীবন নিরাপত্তা, পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং (প্রধান শিক্ষক পদে) পদোন্নতির পথ খুলে দেয়। দ্বিতীয়ত, সামাজিক মর্যাদা – একজন শিক্ষক হিসেবে আপনি সমাজে সম্মান, প্রভাব এবং নেতৃত্বের সুযোগ পান। তৃতীয়ত, আর্থিক স্থিতিশীলতা – ১৩তম গ্রেডে, মূল বেতন ১১,০০০-২৬,৫৯০ টাকা, ভাতা সহ, এবং প্রাথমিক আয় ২০,০০০+ টাকা, যা বছরের পর বছর বৃদ্ধি পায়।
চতুর্থত, কাজের ভারসাম্য – সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা (স্কুলের সময়), সপ্তাহে ৫ দিন, বছরে ৬০+ দিনের ছুটি – পারিবারিক জীবনের জন্য আদর্শ। পঞ্চম, ব্যক্তিগত উন্নয়ন – সরকারি প্রশিক্ষণ (বি.এড, আইসিটি), শিক্ষামূলক সফর এবং শিশুদের সাথে কাজ করে নিজের সৃজনশীলতা এবং নেতৃত্বের দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ। সর্বোপরি, জাতি গঠনে অবদান – খুব কম পেশারই প্রতিটি শিশুর হাত ধরে বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সৌভাগ্য হয়েছে। যদি আপনার বাচ্চাদের শেখানোর আবেগ, ধৈর্য এবং দায়িত্ববোধ থাকে, তাহলে এই ১০,২১৯ পদের সার্কুলারটি আপনার জন্য!
আবেদনের পদ্ধতি
১। প্রথমে আপনাকে এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে http://dpe.teletalk.com.bd
২। অনলাইন আবেদনপত্র পূরণ
ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করার পর, আপনাকে নিম্নলিখিত ধাপগুলি অনুসরণ করতে হবে:
- বিজ্ঞপ্তি নির্বাচন: ওয়েবসাইটে প্রদত্ত ‘Application Form‘ লিঙ্কে ক্লিক করুন এবং ‘সহকারী শিক্ষক’ পদের জন্য আবেদনপত্র নির্বাচন করুন।
- ব্যক্তিগত তথ্য: আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অনুসারে আপনার নাম, জন্ম তারিখ, পিতামাতার নাম, লিঙ্গ, বৈবাহিক অবস্থা, ধর্ম ইত্যাদি সঠিকভাবে পূরণ করুন।
- স্থায়ী এবং বর্তমান ঠিকানা: আপনার স্থায়ী এবং বর্তমান ঠিকানা সাবধানে পূরণ করুন। বিবাহিত মহিলা প্রার্থীরা তাদের স্বামী বা পিতার যেকোনো স্থায়ী ঠিকানায় আবেদন করতে পারবেন এবং তাদের প্রার্থীতা সেই ঠিকানা অনুসারে বিবেচিত হবে।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: আপনার সমস্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা (SSC/সমমান, HSC/সমমান, স্নাতক/সমমান) তথ্য, যেমন – পরীক্ষার নাম, বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তীর্ণের বছর, ফলাফল (GPA/CGPA/বিভাগ) ইত্যাদি সঠিকভাবে পূরণ করুন। মনে রাখবেন, শিক্ষার যেকোনো স্তরে তৃতীয় বিভাগ/শ্রেণী গ্রহণযোগ্য নয়।
- কোটার তথ্য: প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, আপনার কোটা সম্পর্কিত তথ্য (মুক্তিযোদ্ধা, জাতিগত সংখ্যালঘু, শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী, ইত্যাদি) সঠিকভাবে নির্বাচন করুন।
৩. ছবি এবং স্বাক্ষর আপলোড করুন
ফর্ম পূরণের শেষ ধাপে, আপনাকে নির্ধারিত আকারের ছবি এবং স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে:
- পাসপোর্ট আকারের ছবি: ছবির আকার ৩০০x৩০০ পিক্সেল (সর্বোচ্চ ১০০ কিলোবাইট) হতে হবে।
- স্বাক্ষর: স্বাক্ষরের আকার ৩০০x৮০ পিক্সেল (সর্বোচ্চ ৬০ কিলোবাইট) হতে হবে।
৪. আবেদন জমা দিন এবং ব্যবহারকারীর আইডি সংগ্রহ করুন
- সমস্ত তথ্য পূরণ এবং স্বাক্ষর আপলোড করার পরে, একবার দুবার পরীক্ষা করে নিশ্চিত করুন।
- ‘‘Submit’ বাটনে ক্লিক করলে আপনি একটি ‘Applicant’s Copy’ পাবেন, যেখানে আপনার ইউজার আইডি (User ID) লেখা থাকবে। এই কপিটি প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করুন।
৫. আবেদন ফি প্রদান (টেলিটক এসএমএসের মাধ্যমে)
অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণের ৭২ ঘন্টার মধ্যে আপনাকে পরীক্ষার ফি জমা দিতে হবে।
- আবেদন ফি: টেলিটক পরিষেবা চার্জ সহ ১১২/- (একশত বারো) টাকা।
- পদ্ধতি: আপনার টেলিটক প্রিপেইড মোবাইল নম্বর থেকে নিম্নলিখিত দুটি এসএমএস পাঠান।
প্রথম এসএমএস: DPE<space>User ID টাইপ করুন এবং ১৬২২২ নম্বরে পাঠান।
উদাহরণ: DPE ABCDEF পাঠান ১৬২২২ নম্বরে।
ফিরতি এসএমএস: আপনি একটি পিন নম্বর এবং ফি থেকে কাটা অর্থের পরিমাণ সহ একটি ফিরতি এসএমএস পাবেন। আপনি যদি সম্মত হন, তাহলে দ্বিতীয় এসএমএস পাঠান।
দ্বিতীয় এসএমএস: DPE<space>YES<space>PIN টাইপ করুন এবং ১৬২২২ নম্বরে পাঠান।
উদাহরণ: DPE YES 12345678 পাঠান ১৬২২২ নম্বরে।
চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ: সফলভাবে ফি জমা দেওয়ার পরে, আপনি আপনার রোল নম্বর এবং পাসওয়ার্ড সহ একটি ফিরতি এসএমএস পাবেন। আপনার প্রবেশপত্র ডাউনলোড করার জন্য এটি প্রয়োজন হবে, তাই এটি সংরক্ষণ করতে ভুলবেন না।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:
- আবেদনে ভুল তথ্য বা ত্রুটির কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যান হতে পারে।
- প্রবেশপত্র ডাউনলোড করার জন্য পরে এই ব্যবহারকারী আইডি এবং পাসওয়ার্ডের প্রয়োজন হবে।
আবেদনের সময়সীমা
আবেদন শুরু হবে: ০৮ নভেম্বর ২০২৫ (১০:৩০ মি:)
আবেদনের শেষ তারিখ: ২১ নভেম্বর ২০২৫ (১১:৫৯ মি:)